The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবার পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো ওয়াশিংটন আর মানবে না।

গতকাল শনিবার ইরানও এমওইউ সম্পর্কে একই অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে আর দু-তিন দিন হামলা চালালে তেহরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে। খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এমওইউ সই করে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নেতা ও কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এ বৈঠকের পরপর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পালটাপালটি হামলা শুরু হয়। থেমে থেমে তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু গতকাল টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও নিশানা করছে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে জর্ডানে গত শুক্রবার ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর পর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গতকাল লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করছে। এতেই প্রমাণ হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অকার্যকর’।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা আরও দু–তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান সর্বাত্মক অভিযান আবার শুরু করবে।

পাল্টাপাল্টি হামলা:

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে টানা সপ্তম দিনের হামলায় তারা ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও নৌবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে সর্বশেষ মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু, একটি সড়ক সুড়ঙ্গ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার কারণে কয়েকটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সংযোগকারী কয়েকটি সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালনো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরান। রাজধানী রিয়াদের কাছে আল-খারজে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু এলাকায় সতর্কসংকেত বেজেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, আল-খারজের ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা ইরান হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন–ইসরাইলি হামলা শুরুর পর প্রথম পর্যায়ে ১৩ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এরপর এক বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়। এখন জর্ডানে নিহত দুজনসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬।

বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ১২টি শহরের ৯৫টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ফলে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও পানি শোধনাগারের পাম্পে হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ৬ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। তাই তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় থাকা নিজেদের সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।

যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইরানে টানা হামলার পরিধি ও মাত্রা দিন দিন বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালিয়ে জবাব দিচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার সৌদি আরবে হামলা হয়েছে। সিরিয়ায় এই প্রথমবারের মতো হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

কাতারভিত্তিক আরব পারস্পেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি আলজাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। ধীরে ধীরে এটা অনেক বেশি বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আলকিনানির মতে, আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনের উদ্যোগের অনুপস্থিতি এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা না থাকা।

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

 

প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের মাটিতে থাকা হাসিনা নেতা-কর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিল্লির পর্যবেক্ষকেরা একে ‘দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা’ হিসেবে দেখার চেয়ে ‘জল মাপার চেষ্টা’ হিসেবেই বেশি দেখছেন।

ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান

শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে দিল্লির অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে। গত কয়েক দিনে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে নিজে থেকে ডেকে এনে আশ্রয় দেয়নি, আবার এখন জোর করে তাড়িয়েও দিচ্ছে না।

সাউথ ব্লকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘পরিস্থিতি যাচাই করে তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, ফিরবেন। আর যদি মনে করেন ভারতেই থাকবেন, তাহলে তাই।’

রয়টার্সকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকার

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।

তিনি আরো বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হতে পারে, এটা জেনেও তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দিল্লির পর্যবেক্ষণ ও ‘এক ঢিলে অনেক পাখি’

শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে দিল্লির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিক এবং ভারতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এই আলোচনা থেকে প্রধানত দুটি বিষয় উঠে এসেছে—

প্রথমত, শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন মানেই তিনি ডিসেম্বরেই ভারত থেকে ঢাকায় ফিরবেন—এমনটা নাও হতে পারে। মাঝের এই পাঁচ মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, বাংলাদেশ সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব হাসিনাকে নিয়ে কী মনোভাব পোষণ করে—এই সব বিষয়ের ওপরই তার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে।

দ্বিতীয়ত, হাসিনা এই সিদ্ধান্ত কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে না নিলেও, তিনি যে ভারতের প্রচ্ছন্ন সম্মতি ছাড়া এই বক্তব্য দেননি, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষকরা একমত। ভারত সরকারও মনে করছে, এই ঘোষণায় তাদের ক্ষতি নেই, বরং লাভ বেশি। হাসিনা ফিরে গেলে ভারত দু-বছরের কূটনৈতিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি না-ও ফেরেন, তাহলেও দিল্লি বলতে পারবে যে হাসিনা তো ফিরতেই চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। ফলে এই বক্তব্যকে ‘এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা’র শামিল বলে মনে করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বলটা বাংলাদেশ সরকারের কোর্টে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

পর্দার আড়ালের দরকষাকষি ও দিল্লির অঙ্ক

ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, শেখ হাসিনা সত্যিই ফিরতে সিরিয়াস, কারণ আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে তার ফেরা দরকার।

তিনি বলেন, হাসিনা ঢাকায় ফিরলে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবেন এবং বিচার চলাকালীন তাকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হতে পারে। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দরকষাকষি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক জয়ন্ত রায়চৌধুরীর মতে, শেখ হাসিনা বিএনপির কাছে বার্তা দিতে চান যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা তিনি নিজে গিয়ে রুখবেন।

নেতা-কর্মীদের মনোভাব

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মধ্যে হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক নেতা মনে করেন, বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনা ফিরে আসুক, তা বিএনপি সরকার চাইবে না।

হাসিনা দেশে ফিরলে কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা নেত্রীর সঙ্গে বিমানে করে ফিরতে প্রস্তুত।

তবে সাবেক এক ক্যাবিনেট সদস্য জানান, শেখ হাসিনার বিচারের দিকে আন্তর্জাতিক নজর থাকবে, কিন্তু সাধারণ নেতা-কর্মীরা দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিক মিথ্যা মামলায় জেলে চলে যাবেন, যা কেউ জানতেও পারবে না। ফলে শেষ পর্যন্ত কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা এখনই বলা মুশকিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ট্রাম্পের প্রাইম টাইম ভাষণ ঘিরে জল্পনা, কী ঘোষণা আসতে পারে

ট্রাম্পের প্রাইম টাইম ভাষণ ঘিরে জল্পনা, কী ঘোষণা আসতে পারে


 আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে প্রাইম টাইমে বিশেষ ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাষণে ইরান পরিস্থিতি, নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং তার অগ্রাধিকার পাওয়া আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে পারেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে প্রেসিডেন্টের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভাষণটি হবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমন্বয়ে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বৃহস্পতিবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৯টায় তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তবে হোয়াইট হাউসের কোন স্থান থেকে ভাষণ দেবেন এবং নির্দিষ্ট কী বিষয়ে কথা বলবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

উপদেষ্টা জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে ট্রাম্প কথা বলতে চান। পাশাপাশি ভোটারদের কঠোর পরিচয়পত্র যাচাইসংক্রান্ত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট নিয়েও বক্তব্য দিতে পারেন। বর্তমানে বিলটি কংগ্রেসে আটকে রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তার প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার ফলাফলও তুলে ধরতে পারেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল তিনি কখনোই মেনে নেননি।

তবে জর্জিয়ার ২০২০ সালের সিনেট নির্বাচন নিয়ে ভাষণে কোনো ঘোষণা আসছে কীনা, এমন গুঞ্জন নাকচ করেছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা।

তার ভাষ্য, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট আরও নিয়মিত এ ধরনের প্রাইম টাইম ভাষণ দিতে চান, যাতে জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন ৫০ বছরে অর্ধেকে নেমেছে

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন ৫০ বছরে অর্ধেকে নেমেছে


 বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা কমেছে অর্ধেকের বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসমাজ এখন পুরুষদের প্রজননক্ষমতার ব্যাপক সংকটের মুখে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বার্ষিক সভায় বসেছিলেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির সদস্যরা। সেখানেই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে ৫৪ শতাংশ।

টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এর সঙ্গে পরিবেশগত কিছু বিষয়ের প্রভাব রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে থাকা এন্ডোক্রাইনের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরন হরমোন কমার বড় কারণ হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন। তাঁর মতে, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি যতটা আশঙ্কার, ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

হাগাই লেভিন বলেন, ‘৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যেতে আমরা দেখেছি। এর অর্থ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে টেস্টোস্টেরন কমেছে। এটি আকস্মিক ঘটনা নয়, কোনো পরিসংখ্যানগত ভুলও নয়।’পুরুষের প্রজননক্ষমতা আসলেই কমছে কি না এবং কমলেও কেন কমছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পটভূমিতে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

একই গবেষক দল এর আগে পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে গবেষণা করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, গত ৪০ বছরে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সে তথ্যও বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।

তবে এসব দাবি বিজ্ঞানী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা গার্ডিয়ানকে বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সর্বশেষ এসব পর্যবেক্ষণকে ‘বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবেই দেখা উচিত।

চান্না জয়সেনা বলেন, ‘ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল ধরে এসব গবেষণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়টিই আমাকে গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের ব্যাপারে সত্যিই আশ্বস্ত করেছে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বেড়েই চলেছে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হরমুজে আটকা ৬ হাজার নাবিক, সংযমের আহ্বান আইএমও প্রধানের

হরমুজে আটকা ৬ হাজার নাবিক, সংযমের আহ্বান আইএমও প্রধানের

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরে শত শত জাহাজে প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

এক বিবৃতিতে ডোমিঙ্গেজ গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী কয়েকটি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এসব হামলায় নিরীহ নাবিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনো নাবিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়া উচিত নয়।

আইএমও প্রধান পতাকাবাহী রাষ্ট্র, জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এড়িয়ে চলা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো উপসাগর ছাড়তে না পারা প্রায় ৬ হাজার নাবিকের মধ্যে বিদ্যমান ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডোমিঙ্গেজ জোর দিয়ে বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সূত্র: আমার দেশ

 

ইরাকের এরবিলে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা

ইরাকের এরবিলে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা

 


কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইরাকের এরবিল শহরের একটি তেল শোধনাগারে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর আল জাজিরা।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় রাডার সিস্টেমের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এতে কোনো যাত্রী বা বিমানবন্দর কর্মী আহত হননি। অন্যদিকে, ইরাকের এরবিলে ড্রোন হামলার ফলে একটি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি বলেন, ‘কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি না ঘটায় কর্তৃপক্ষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে এই হামলার উৎস সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

একই সময়ে রয়টার্সের তথ্যমতে, উত্তর ইরাকের এরবিল শহরের ‘লানাজ’ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইরাকের আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নেভানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত শোধনাগারের কাজ বন্ধ থাকবে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গত শনিবার এই ড্রোনটি শোধনাগারটিতে আঘাত হানে। ধারাবাহিক এই হামলাগুলো পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খার্গ দ্বীপে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আরাগচি দাবি করেন, মিসাইলগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের কাছ থেকে ছোড়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইরান এর পাল্টা জবাব দিতে পারে এবং এটি এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে তেহরানের যেকোনো পদক্ষেপ হবে আত্মরক্ষামূলক এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর

ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর

 


ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে হিজবুল্লাহ। দলটির প্রধান নাইম কাসেম বলেছেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’

সোমবার আঞ্চলিক সংঘাত লেবাননে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলেছিল হিজবুল্লাহ। কিন্তু তার দাবি, ইসরায়েল সেই চুক্তির কোনো শর্ত মানেনি।

নাইম কাসেম বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিক সমাধানে রাজি হয়েছিলাম এবং এটিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলাম, কিন্তু আমরা বারবার বলেছি, ধৈর্যের সীমা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পথ হলো তাদের মোকাবিলা করা সর্বোচ্চ ত্যাগের পর্যায়ে, শেষ সীমা পর্যন্ত, এবং আমরা আত্মসমর্পণ করব না।’ সোমবার হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়।

এর জবাবে লেবাননের দক্ষিণে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সেখানে স্থলসেনাও পাঠানো হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানে স্থল হামলা শুরু কুর্দিদের

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানে স্থল হামলা শুরু কুর্দিদের


 যুক্তরাষ্ট্রের মদদ ও সহায়তায় ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্থল হামলা শুরু করেছে ইরানি কুর্দিরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রেভিড মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, “ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইরানি কুর্দিরা স্থল হামলা শুরু করেছে।

ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় কুর্দিদের শক্তিশালী অবস্থান। গত কয়েকদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের দিয়ে ইরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা করে আসছে। মার্কিনিদের লক্ষ্য— কুর্দিদের দিয়ে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীকে হত্যা করা এবং সরকার পতনের ক্ষেত্র তৈরি করা। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে, কুর্দি বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার পর সাধারণ মানুষকে সরকার পতনের জন্য রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হবে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ৪টার দিকে জানায়, কুর্দিদের স্থল হামলা শুরুর ব্যাপারে তারা নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারছে না। কিন্তু বেশ কিছু বিষয় ইঙ্গিত করছে কুর্দিদের হামলা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, কুর্দিদের নেতা বাফেল তালাবানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি মন্ত্রী কুর্দি নেতাকে বলেছেন, “ইরাক-ইরান সীমান্তে জঙ্গিদের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে।”

সূত্র: আলজাজিরা

ইরানের রাজধানীতে নতুন করে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের

ইরানের রাজধানীতে নতুন করে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের

 


ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ফের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। বুধবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এ ঘোষণা দেয়।

তারা বলেছে, ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। এরআগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে তেহরানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল তারা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ইরানের সেনারা ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক ও্ই সময় হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে প্রথম হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতেরটি ছিল ১১তম হামলা।

 

সূত্র: সিএনএন

 

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার আশঙ্কা—রয়টার্স।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার আশঙ্কা—রয়টার্স।

 


মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থমথমে। যেকোনো সময় বড় কিছু ঘটতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। 

গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণ শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়াকড়ির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সরাসরি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে এবং মার্কিন সাহায্য খুব শীঘ্রই সেখানে পৌঁছাবে।

ইতোমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাতারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তেহরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা তুরস্কের মাটি ব্যবহার করে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, তবে সেসব দেশও ইরানি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ চান না তবে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিবৃতি। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি তাদের সরকারি দপ্তরগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও বুধবার রাতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর দেখিয়ে দাবি করেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন, তবুও সামরিক হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না আন্তর্জাতিক মহল। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যে হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন প্রশাসনকে সংযত থাকার এবং সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছে।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ থেমে যাওয়ায় হামলার শঙ্কা বাড়ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ থেমে যাওয়ায় হামলার শঙ্কা বাড়ছে।

 


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতা কমে আসলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছেই। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। 

দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ স্থগিত হওয়ার খবর এসেছে এমন এক সময়ে যখন অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি জোরালো করছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যেই দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের সব চ্যানেল বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে গত দুই সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আরও জোরালো করেছেন।

তেহরান ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়ার পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

একটি ইসরায়েলি মূল্যায়নের বরাতে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের পরিসরও সময় এখনও স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।

এদিকে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সামরিক সদস্যকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কূটনীতিক রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সকে এক কূটনীতিক বলেন, এটি মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়, বরং সামরিক অবস্থান ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

 সূত্র: আল-জাজিরা

হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলা কেন সহজ নয়—গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ।

হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলা কেন সহজ নয়—গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ।

 


সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জেরে ইরানে বারবার হামলার হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই হুমকির বাস্তবায়ন বাস্তবে বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কোনও সহজ সামরিক কৌশল নেই, যা ইরানের চলমান বিক্ষোভকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে।

প্রস্তুতির অভাব

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে তেমন কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা বাহিনী মোতায়েন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বরং গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো হয়েছে, যা হামলার আশঙ্কাকে আরও দুর্বল করে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর টানা প্রায় দুই বছর অঞ্চলটিতে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ছিল। কিন্তু এখন ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চলে এবং ইউএসএস নিমিৎজ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানে হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান কিংবা সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে হবে। তবে এমন কিছু করলে ঘাঁটিগুলোও ইরানের পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিতে পড়বে।

বিমান হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বিকল্প হতে পারে গত জুনে ফোরদোতে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো দূরপাল্লার বি-২ বোমারু বিমানের মতো অভিযান। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন হামলা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যদিও গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তবুও তেহরানের কাছে এখনও প্রায় দুই হাজার ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাহাড়ের ভেতরে লুকানো উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো পুনর্গঠনও করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হতে পারে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র আসলে কোথায় আঘাত হানবে। বিক্ষোভ এবং সরকারের দমন-পীড়ন সারাদেশে ছড়িয়ে থাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন। ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে এবং এতে বাস্তবে কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তন না-ও আসতে পারে।

সরকারের পক্ষে বিশাল জনসমর্থন
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইরানি সরকার জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে এবং নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন জড়ো করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানসহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ইতিহাস এই প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে। জুনে ইসরায়েলের বড় ধরনের আঘাত সত্ত্বেও ইরানি সরকার এখনও ভেঙে পড়েনি।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক রোক্সান ফারমানফারমায়ান বলেন, ইরানে এখনও একটি সুসংগঠিত সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামো বিদ্যমান, যা যেকোনও মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত।

খামেনিকে সরিয়ে দিলে কী হবে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং তা সত্ত্বেও সরকার পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই। এমনকি খামেনি মারা গেলে তার উত্তরসূরির তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল গত জুনে ইরানের অন্তত ৩০ জন শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যা করলেও সরকার অটুট ছিল। ফলে সীমিত মার্কিন হামলা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ভাঙতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

সাইবার হামলাই কি শেষ উপায়?

এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে সাইবার হামলার কথাও উঠেছে। তবে বিদ্যুৎ বা যোগাযোগব্যবস্থায় আঘাত বেসামরিক মানুষকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এমনকি ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের মতো উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা কঠিন।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ ধরনের বক্তব্যের বিপরীতে বাস্তবতা হলো—ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত এবং ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কাতারের মার্কিন ঘাঁটি থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার—এর পেছনে কী বার্তা?

কাতারের মার্কিন ঘাঁটি থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার—এর পেছনে কী বার্তা?

 

ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সর্বশেষ ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে পুঁজি করে দেশটিতে হামলার হুমকি দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাসদস্যকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আল উদেইদে এই নির্দেশনা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সামরিক সদস্যকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কূটনীতিক রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনার অবস্থান।

রয়টার্সকে এক কূটনীতিক বলেন, এটি মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়, বরং সামরিক অবস্থান ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে—এমন সতর্কবার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে তেহরান। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

একটি ইসরায়েলি মূল্যায়নের বরাতে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের পরিসরও সময় এখনও স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘাঁটি থেকে কিছু সৈন্য সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবারের সেনা সরানোর ঘটনাও তেমন কিছুর ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।  

সূত্র: আল-জাজিরা

খামেনিকে আটকাতে গেলে কেন বড় বিপাকে পড়তে পারে মার্কিন বাহিনী

খামেনিকে আটকাতে গেলে কেন বড় বিপাকে পড়তে পারে মার্কিন বাহিনী


 ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটকের জন্য পরিচালিত মার্কিন অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী যেভাবে সহজে প্রবেশ করতে পেরেছে, ইরানের ক্ষেত্রে সমীকরণটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আধুনিক। মূলত চীন ও রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে এই সিস্টেম।

সম্প্রতি তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরান তার আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রুশ নির্মিত এস-৩০০ এবং বুক-এমটুএস সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল ছিলো। যা গত মাসের মার্কিন অভিযানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার রাডারগুলো একে অপরের সাথে নেটওয়ার্কযুক্ত ছিল না এবং দুর্নীতির কারণে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়নি। ফলে মার্কিন ইএ-১৮জি গ্রোলার বিমানের ইলেকট্রনিক যুদ্ধে সেগুলো সহজেই অকেজো হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, ইরান গত এক বছরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। তেহরান বর্তমানে চীনের সবচেয়ে উন্নত ‘এইচকিউ-৯বি’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করছে। অত্যন্ত শক্তিশালী এই মিসাইলটি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতিও শব্দের চেয়ে চার গুণ বেশি। চীনের সাথে ‘তেল বনাম অস্ত্র’ চুক্তির মাধ্যমে ইরান এই সর্বাধুনিক সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন ইরানের হাতে রয়েছে। যা ভেনেজুয়েলার কাছে থাকা এস-৩০০ এর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার। রাশিয়ার এস-৩০০ এর আদলে তারা তৈরি করেছে ‘বাভার-৩৭৩’, যা ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লায় কাজ করতে পারে। ইরানের এই হাইব্রিড প্রতিরক্ষা কৌশলে রুশ, চীনা এবং দেশীয় সিস্টেমগুলো একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে কাজ করে। ফলে মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গত জুনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বেশ কিছু পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরান দ্রুততম সময়ে তাদের এই আকাশ প্রতিরক্ষা দেয়াল আরও নিশ্ছিদ্র করেছে। ফলে ভেনেজুয়েলার মতো একপাক্ষিক অভিযান ইরানের ক্ষেত্রে পরিচালনা করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

যে উদ্দেশ্যে ভারত সফরে আসছেন পুতিন

যে উদ্দেশ্যে ভারত সফরে আসছেন পুতিন

 


দুই দিনের জন্য ভারত সফর শুরু করতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার এই সফর শুরু হওয়ার কথা। সফরে পুতিন ভারতের কাছে রুশ তেল, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক জোরদার করাই পুতিনের এই সফরের লক্ষ্য।

ভারত বহু বছর ধরে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সমুদ্রপথে পাঠানো তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে।

চার বছর পর প্রথমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে পুতিনের সঙ্গে আসছেন তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসোভ ও ব্যবসায়ী-শিল্প প্রতিনিধিদের একটি বড় দল।

ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পুতিনের সফর ভারতের জন্য মস্কোর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের শক্তি পুনরায় তুলে ধরার সুযোগ। এই সুযোগে নতুন অস্ত্রচুক্তির অগ্রগতিও হতে পারে।

তবে ভারত উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি বা প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। আগস্টে তিনি ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিলেন।

পুতিনের সফরের আগে দুই দেশের কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা, নৌপরিবহন ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। 

সূত্র: রয়টার্স


ইমরান খান পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে: উজমা

ইমরান খান পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে: উজমা


 পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন উসমা খানম মঙ্গলবার আদিয়ালা জেলে কারাবন্দী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তিনি জানিয়েছেন, ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ও মৃত্যুর গুজব নিয়ে চলা কয়েক দিনের নাটকীয়তার অবসান হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার কয়েক সপ্তাহ পর উজমা খানমকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। উজমা খানম কারাগারের ভেতরে যাওয়ার সময়ও বাইরে বিপুল সংখ্যক পিটিআই সমর্থক কারাগারের জড়ো হয়েছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে উজমা খানম বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ঠিক আছে। তবে তিনি খুব রাগান্বিত ছিলেন এবং বলেছেন তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, তার ভাইকে দিনের বেলায় সারাক্ষণ তার কক্ষেই রাখা হয়, বাইরে যাওয়ার জন্য সামান্য সময় দেওয়া হয় এবং কারও সাথে কোনো যোগাযোগের সুযোগ নেই। উজমা খানম জানান, তিনি ইমরান খানের সাথে ৩০ মিনিট ছিলেন।


সূত্র: ডন

সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অপহরণের ‘মহামারী বিস্ফোরক অভিযোগ -পিনাকী ভট্টাচার্যের

সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অপহরণের ‘মহামারী বিস্ফোরক অভিযোগ -পিনাকী ভট্টাচার্যের



পিনাকী ভট্টাচার্যের


"গত আট মাসে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশী অপহরণের শিকার হয়েছে শতাধিক। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তিনজন। সবচেয়ে ভয়ংকর খবর হচ্ছে এই কাজ করছে বাংলাদেশীরাই। মুক্তিপণ আদায় একটা কারণ।

সেই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে সৌদি প্রবাসী সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য বাংলাদেশীরা।

আমি বিষয়টা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। আমাদের দুতাবাসেও কথা বলেছি। সরকার অবহিতই শুধু না উনারা কাজ করছেন।

কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। কিন্তু ভিক্টিমকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছে এমন প্রভাবশালী তারা। কেউ সাক্ষ্যও দিতে আসছে না। তাই তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টা জটিল সেই কারণে। আপনারা সাক্ষ্য দিবেন। ভয় পাবেন না। আর এর পর থেকে যারা গ্রেফতার হবে তাদের নিয়ে এপিসোড বানাবো আমি ইলিয়াস আর কনক সারোয়ার একসাথেই। যারা এই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের নাম ধাম প্রকাশ করে দেবো হাতে অকাট্য প্রমাণ এলেই।

আমরা কিছু নাম জেনেছি এর মধ্যেই যারা এই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর একটা ঘটনা ঘটলে সিরিয়াল ধরে একজন একজন করে নাম ধাম প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের ভাত কিন্তু জিন্দেগীর মতো হারাম হয়ে যাবে।"

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট পিনাকীর এই পোস্টটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে শেয়ার করা হয়েছে, যা সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিচে বিস্তারিত:

অপহরণের পরিসংখ্যান ও প্রকৃতি:

গত ৮ মাসে (এপ্রিল থেকে নভেম্বর ২০২৫) শতাধিক (১০০+) বাংলাদেশী অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অপহরণকারীরা সহ-প্রবাসী বাংলাদেশীরা – তারা মুক্তিপণ (১০-৫০ লাখ টাকা) আদায় করে। অপহৃতদের আটকে রেখে বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও/অডিও কল করে হুমকি দেয়া হয়। টাকা বিকাশ, ব্যাংক বা এমএফএস-এর মাধ্যমে আদায় করা হয়।

সৌদির রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামের মতো শহরে এই চক্র সক্রিয়। ২০১৬-১৭ সাল থেকে শুরু হলেও, করোনা পরবর্তী সময়ে এটি 'মহামারী' আকার ধারণ করেছে।45de01


পিনাকীর অভিযোগ: সৌদির প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা এই ক্রিমিনাল চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রেপ্তারকৃতরা ছাড়া পান। তিনি বলেছেন, কিছু নাম তারা জেনে গেছেন, এবং অকাট্য প্রমাণ পেলে প্রকাশ করবেন। "বাংলাদেশের ভাত জীবনের মতো হারাম হয়ে যাবে" – এই সতর্কবাণী দিয়ে তিনি জাতীয় লজ্জার কথা তুলে ধরেছেন।


পিনাকী জানান, তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালীদের হুমকিতে ভিক্টিমরা সাক্ষ্য দিতে ভয় পান। ফলে অপরাধীরা মুক্তি পান।

সরকার অবহিত কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেই। দূতাবাসের 'প্রবাসী সহায়তা সেল' কাজ করছে না বলে অভিযোগ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি।b596a9

পিনাকীর ঘোষণা ও আহ্বান ভিক্টিমদের "সাক্ষ্য দিন, ভয় পাবেন না।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে ইলিয়াস এবং কনক সারোয়ারের সঙ্গে এপিসোড তৈরি করবেন। আরেকটি ঘটনা ঘটলে সিরিয়ালভাবে আশ্রয়দাতাদের নাম প্রকাশ করবেন।

এটি একটি জটিল সমস্যা, কারণ অদৃশ্য শক্তি (প্রভাবশালী লোকেরা) হস্তক্ষেপ করছে।

সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ (পিনাকীর পোস্টের প্রেক্ষাপটে):

নভেম্বর ২০২৫: রিয়াদে ২০ বছরের প্রবাসী মো. রাসেলকে অপহরণ। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, পরিবার ৩৫ লাখ দেয়। চক্রের সদস্য জিয়াউর রহমান (৪২) বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন।

মে ২০২৫: রিয়াদের সোলাই এলাকায় জয়নাল আবেদীনকে অপহরণ, ১০ লাখ দাবি। ১.৫ লাখ বিকাশে মুক্তি, কিন্তু নির্যাতিত।

সৌদিতে ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিক আছেন, যা রেমিট্যান্সের বড় অংশ। এই চক্র রেমিট্যান্স কমাতে পারে।

প্রভাব ও দাবি পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। #SaveSaudiBangladeshi, #StopKidnappingInSaudi ট্রেন্ড করছে। প্রবাসীরা ৭ দফা দাবি তুলেছেন: দূতাবাস সক্রিয় করা, যৌথ তদন্ত, ভিক্টিম সহায়তা ইত্যাদি। পিনাকীর এই পোস্ট বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন আন্দোলনের সূচনা করেছে।

#পিনাকী ভট্টাচার্যের