ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সর্বশেষ ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে পুঁজি করে দেশটিতে হামলার হুমকি দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাসদস্যকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আল উদেইদে এই নির্দেশনা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সামরিক সদস্যকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কূটনীতিক রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনার অবস্থান।
রয়টার্সকে এক কূটনীতিক বলেন, এটি মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়, বরং সামরিক অবস্থান ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে—এমন সতর্কবার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে তেহরান। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
একটি ইসরায়েলি মূল্যায়নের বরাতে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের পরিসরও সময় এখনও স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রতিফলন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘাঁটি থেকে কিছু সৈন্য সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবারের সেনা সরানোর ঘটনাও তেমন কিছুর ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
No comments:
Post a Comment