The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, তবু বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, তবু বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক

খুলনার পাইকগাছার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, তাঁর নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও তাঁর ভোটার তালিকায় নাম থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের নাগরিকত্ব, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অর্থ লেনদেন এবং বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে তদন্তও হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের একটি ঠিকানায় তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুলনার পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামেও তাঁর ভোটার হিসেবে নাম রয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।

একাধিক তদন্ত, তবু বহাল পদ

অভিযোগগুলো নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক তদন্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদন দেয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে দীপক চন্দ্র সরকারের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়।

তারপরও তিনি কীভাবে এখনো প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে উঠে আসা বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন দীপক চন্দ্র সরকার। বাংলা এডিশনকে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এতগুলো অভিযোগ ও তদন্তের পরও একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যেও স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, দীপককে শোকজ করা হয়েছিল এবং জবাব না পাওয়ায় তাকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগের তদন্ত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং প্রধান শিক্ষকের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তদন্তে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

প্রকাশ হলো একাদশে ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি

প্রকাশ হলো একাদশে ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এবারও শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

ভর্তি হবে অনলাইনে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পুরো কার্যক্রম কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় একাধিক কলেজ পছন্দের তালিকায় রাখার সুযোগ থাকবে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। এরপর শিক্ষার্থীর মেধাক্রম, কোটা ও পছন্দের ভিত্তিতে একটি কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

কোনো ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কলেজ নির্ধারণ করা হবে।

তবে আদালতের নির্দেশনা বা প্রচলিত বিশেষ নিয়মের আওতায় থাকা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে।

কয়েক ধাপে হবে ভর্তি কার্যক্রম

একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া একাধিক ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আবেদন গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রতিটি ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। এরপর মাইগ্রেশন ও চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে।

সব ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মেধার ভিত্তিতে কলেজ নির্বাচন

ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর দেওয়া পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য কোটা বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যে কলেজগুলো পছন্দের তালিকায় রাখবেন, সেগুলোর মধ্যে তার মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ নির্ধারণ করা হবে।

আবেদন ফি ও পছন্দের কলেজ

ভর্তির অনলাইন আবেদন করতে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। সাম্প্রতিক ভর্তি নীতিমালায় আবেদন ফি ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং একজন শিক্ষার্থী পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দিতে পারতেন।

তবে চলতি বছরের চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ফি ও সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এলে সেটিই কার্যকর হবে।

ভর্তি ফি কলেজভেদে আলাদা

কলেজে চূড়ান্ত ভর্তির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ভর্তি ফি নির্ধারিত হবে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার জন্য আলাদা সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা থাকে। নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আলাদা কাঠামো রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়ার সময় নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ আদায় না করার বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে।

এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পরামর্শ

এদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদন করার সময় কলেজের অবস্থান, বিষয়ভিত্তিক আসন, গ্রুপ এবং শিক্ষার্থীর নিজের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে পছন্দক্রম সাজানো গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন শুরুর তারিখ, ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন, চূড়ান্ত ভর্তি ও ক্লাস শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

জবিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের নিন্দা জানাল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

জবিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের নিন্দা জানাল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট


 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ এবং দখলদারিত্বের রাজনীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জবি শাখা। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার অবসান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক তৌকির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্যাম্পাসে হামলা ও দখলদারিত্বের প্রতিবাদে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মিছিল বের করলে সংগঠনটির জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীবসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সংগঠনটির মতে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাত দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দখলদারিত্ব ও সহিংস রাজনীতির ধারাবাহিকতা, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সবসময় শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, ছাত্ররাজনীতির একটি ধারা সন্ত্রাস ও আধিপত্যের, অন্যটি শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও মুক্ত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার।

এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সৃষ্ট অস্থির পরিবেশের জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতকে দায়ী করে নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনোভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত হবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংসতা বন্ধ, সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জবিতে সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত সাংবাদিক কায়েস

জবিতে সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত সাংবাদিক কায়েস

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও আজকালের খবর–এর প্রতিবেদক কায়েস।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকাল থেকে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলেন কায়েস। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তিনি আহত হন। পরে সহপাঠী ও সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

আহত সাংবাদিক কায়েস অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলের এক কর্মী তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন।

তিনি বলেন, “আমি নিউজ কভার করছিলাম। তখন ছাত্রদলের একজন আমাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। আমার দোষ ছিল, আমি কেন সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। আমাকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং মাথায়ও আঘাত করা হয়।”

প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার নিন্দা, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি ছাত্রশিবিরের

জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার নিন্দা, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি ছাত্রশিবিরের

 

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। পরে পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জকসু নেতা, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একই ধরনের হামলার অভিযোগ তোলা হয় ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাতেও।

ছাত্রশিবিরের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট সমাধান এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এতে জকসু নেতাসহ বহু শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরও সেখানে হামলার অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া ঢাকা কলেজে পূর্বনির্ধারিত একটি কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরে সংগঠনটি। এসব ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে ছাত্রশিবির। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি, প্রক্টর অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয় বহন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর।

এদিকে, এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ, আহত জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ, আহত জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জকসু সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল। ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এসব দাবি জানাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

তাদের অভিযোগ, প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়া হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং জকসুর প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ককে বলতে, “এই দরজা বন্ধ কর, দ্রুত গেট আটকা।” এরপর মিলনায়তনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের সম্ভাব্য সময় থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে।

 তবে নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানান জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

 এ মাসেই ফলাফল প্রকাশ হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সবকিছু প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আমাদের জন্য তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আন্দোলনে ছাত্র নন এমন ব্যক্তিরাও আছেন, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্দোলনে ছাত্র নন এমন ব্যক্তিরাও আছেন, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ব্যানারে চলমান ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি মন্তব্য করেছেন, কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।

এ আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুএকটি জেলায় ও ঢাকায় দুএকটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতে চায় এ রকম কিছু মহল তো আছেই। বিভিন্ন ইস্যুতে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়—সেটা দৃশ্যমান হয়েছে। যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই দেখা গেছে আসলে ছাত্রই না, পরীক্ষার্থীই না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। আর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

১০ ঘণ্টা পর পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, আসছে নতুন কর্মসূচি

১০ ঘণ্টা পর পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, আসছে নতুন কর্মসূচি


 প্রায় ১০ ঘণ্টা আন্দোলনের পর রাজপথের অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে তারা নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা সেখান থেকে সরে গেলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে যান। পরে বিকেলে সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে তারা অবস্থান চালিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন।

পরে পুলিশ সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ আবারও ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে শিক্ষার্থীরা সেখানে আবার জড়ো হন। এ সময় একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, বাস ভাঙচুরে জড়িতরা শিক্ষার্থী নন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একজন আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে আজকের (মঙ্গলবার) আন্দোলন এখানেই স্থগিত করা হলো। পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: আমার দেশ

বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য আজ রাত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদত্যাগ না করলে বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি ঘোষণার পর তারা উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সড়ক ছেড়ে চলে যান।

এদিকে একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান করছিলেন। একই এলাকায় পুলিশ সদস্যদেরও অবস্থান করতে দেখা যায়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও রয়েছে।

এর আগে সোমবার টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ওই কর্মসূচির পর তারা টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান।

পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন।

সূত্র : আমার সংবাদ

ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশ, দেখুন যেভাবে জানবেন ফল

ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্ট প্রকাশ, দেখুন যেভাবে জানবেন ফল


 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে আজ রাত ৯:০০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় সারা দেশের ৬৪৭টি কেন্দ্রে ১,৯১৫টি কলেজের নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানউন্নয়নসহ সর্বমোট ১,৯৭,৬১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে গড় উত্তীর্ণের হার ৯৩.৫৩ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকাশিত ফলাফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (http://103.113.200.8/ অথবা http://result.nu.ac.bd) থেকে জানা যাবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা ভুল পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন অথবা ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।