জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার নিন্দা, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি ছাত্রশিবিরের
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। পরে পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জকসু নেতা, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একই ধরনের হামলার অভিযোগ তোলা হয় ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাতেও।
ছাত্রশিবিরের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট সমাধান এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এতে জকসু নেতাসহ বহু শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরও সেখানে হামলার অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা কলেজে পূর্বনির্ধারিত একটি কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরে সংগঠনটি। এসব ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে ছাত্রশিবির। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি, প্রক্টর অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয় বহন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর।
এদিকে, এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।