ফোনে কথা বলতে বলতে নদীতে তলিয়ে যান মা, ৮ বছরের আলিফকে বের করে দেন জানালা দিয়ে - The Future Press

শিরোনাম

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, March 26, 2026

ফোনে কথা বলতে বলতে নদীতে তলিয়ে যান মা, ৮ বছরের আলিফকে বের করে দেন জানালা দিয়ে

 রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে ফোনে কথা বলতে বলতেই নিজের জীবন তুচ্ছ করে সন্তানকে বাঁচিয়েছেন এক মা। বাসের জানালা দিয়ে মা ঠেলে বের করে দেওয়ায় আট বছর বয়সী শিশু আলিফ সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও, তার মা জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি যখন দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বেঁচে ফেরা শিশু আলিফ জানায়, সে তার মায়ের কোলে বসে ছিল। বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় তার মা দ্রুত তাকে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে ঠেলে দেন। আলিফ বলে, ‘বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছিল, মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। আমি সাঁতার কেটে উপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না।’

নিখোঁজ জ্যোৎস্না বেগমের মা সাহেদা বেগম জানান, আমার মেয়ে ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য জ্যোৎস্নাকে তিনি নিজেই বাসে তুলে দিয়েছিলেন।

সাহেদা বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে আমি মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ জ্যোৎস্না বলে উঠল ‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনো কথা শুনতে পাই নাই। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতেই নদীর মধ্যে চলে গেল।’ জ্যোৎস্না বেগমের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর শিশু আলিফসহ মোট ১১ জন যাত্রী সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তবে বাসে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

No comments:

Post Bottom Ad

Pages

Copyright © 2025 Futurepress24 -All Rights Reserved