৫২ বছর পর বিশ্বকাপে হাইতি, ২৮ বছর পর ফিরেছে স্কটল্যান্ড - The Future Press

শিরোনাম

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, June 13, 2026

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে হাইতি, ২৮ বছর পর ফিরেছে স্কটল্যান্ড

 


বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলেরই গল্পটা অনেকটা অপেক্ষা, প্রত্যাবর্তন এবং নতুন স্বপ্নের। ৫২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে হাইতি। অন্যদিকে ২৮ বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে বিশ্বকাপের আসরে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। তাই বস্টন স্টেডিয়ামে রবিবারের এই লড়াই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, বরং দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখারও সুযোগ।

গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুটি ভিন্ন বাস্তবতার দল। একদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের মাত্র দ্বিতীয় উপস্থিতি নিয়ে নামছে হাইতি, অন্যদিকে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ও ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড।

ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে হাইতি

হাইতির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি এক আবেগঘন মুহূর্ত। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছে দেশটি। দীর্ঘ অর্ধশতকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি।

সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, ম্যাচের আগে হাইতি শিবিরে কোনো চোট কিংবা নিষেধাজ্ঞাজনিত সমস্যা নেই। কোচ সেবাস্তিয়ান মিঞের হাতে রয়েছে পুরো ২৬ সদস্যের ফিট দল। ফলে কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, স্কটল্যান্ডের শক্তিশালী মধ্যমাঠকে মোকাবিলা করতে ৪-৪-২ ছকে দল সাজাবে হাইতি। আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজোঁর। তার সঙ্গী হতে পারেন সান্ডারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড উইলসন ইসিদর। যদিও ফ্রাঁৎজদি পিয়েরোও প্রথম একাদশে জায়গার জন্য জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মধ্যমাঠে দলের সৃজনশীলতার প্রধান ভরসা জ্যঁ-রিকনার বেলগার্দে। পুরোপুরি ফিট এই মিডফিল্ডারের ওপরই আক্রমণ গঠনের বড় দায়িত্ব থাকবে।

বড় স্বস্তি পেল স্কটল্যান্ড

ম্যাচের আগে স্কটিশ শিবিরে স্বস্তির খবর এনে দিয়েছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে। পেটের অসুস্থতার কারণে সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলনে অংশ নিতে না পারলেও তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। কোচ স্টিভ ক্লার্ক নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে কোনো সমস্যা নেই তার।

তবে স্কটল্যান্ড একটি বড় ধাক্কাও খেয়েছে। মিডফিল্ডার বিলি গিলমোর হাঁটুর গুরুতর চোটে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে এই চোট পান তিনি। তার বদলি হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ মিডফিল্ডার টাইলার ফ্লেচারকে।

এ ছাড়া রক্ষণভাগের স্কট ম্যাককেনা ও নাথান প্যাটারসন সামান্য চোটে ভুগলেও তারা ম্যাচের জন্য বিবেচনায় আছেন। আক্রমণভাগে স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা চে অ্যাডামস। দুর্দান্ত শারীরিক অবস্থায় থাকা এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে প্রথম একাদশে।

সাম্প্রতিক ছন্দে এগিয়ে স্কটল্যান্ড

বিশ্বকাপের আগে হাইতির প্রস্তুতি ছিল মিশ্র।

সম্ভাব্য একাদশ

হাইতি:
প্লাসিদ; আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স; ডিডসন, জ্যঁ জ্যাক, বেলগার্দে, প্রভিডেন্স; ইসিদর, নাজোঁ।

স্কটল্যান্ড:
গান; হিকি, হ্যানলি, সাউতার, রবার্টসন; ডোক, ম্যাকটমিনে, ফার্গুসন, ম্যাকগিন; অ্যাডামস, শ্যাঙ্কল্যান্ড।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

তথ্য বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটিতে স্কটল্যান্ডই ফেভারিট। ইউরোপীয় দলটির অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের এগিয়ে রাখছে। তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে হাইতির মতো ক্ষুধার্ত দল যে কোনো সময় চমক দেখাতে পারে। ৫২ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপে ফেরা হাইতি কি রূপকথার শুরু করবে, নাকি ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্কটল্যান্ড নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে তার উত্তর মিলবে বস্টনের মাঠেই।
 




No comments:

Post Bottom Ad

Pages

Copyright © 2025 Futurepress24 -All Rights Reserved