৪৪ লাখ রুপির বীমার টাকার লোভে স্ত্রীকে হত্যা, দুর্ঘটনা সাজাতে মরদেহের ওপর চালানো হয় গাড়ি
ভারতের উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় ৪৪ লাখ রুপির বীমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর অভিযোগে এক ব্যক্তি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত নারীর নাম রিতা। অভিযুক্ত স্বামী অমর সিং প্রথমে নিজেই স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে থানায় যান। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অমর সিং অপরাধের কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, বীমার অর্থ পাওয়ার লোভে তিনি আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কাঠ ও লাঠি দিয়ে রিতাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহের ওপর দিয়ে একটি গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়।
গত বুধবার গভীর রাতে হামিরপুরের লালপুরা এলাকার বৈঠকা ধাম মন্দিরসংলগ্ন এলাকা থেকে রিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রিতার শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া কিডনি ছাড়া শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা সর্বেশ কুমার জানান, ২০০২ সালে রিতার প্রথম বিয়ে হয় এবং তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কানপুরের গুজাইনি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে আটার একটি কারখানায় কর্মরত অমর সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রায় দুই বছর আগে তারা বিয়ে করেন।
তিনি আরও জানান, মাত্র দুই মাস আগে অমর সিং রিতার নামে ৪৪ লাখ রুপির একটি জীবনবীমা করেন এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ২ লাখ ৬০ হাজার রুপি জমা দেন।
হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অরবিন্দ কুমার ভার্মা বলেন, অভিযুক্ত নিজেই স্ত্রী নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে থানায় এসেছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পরে পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।
তিনি জানান, অভিযুক্ত স্বামী ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে রিতার সন্তানরা উত্তর প্রদেশের মইনপুরীতে তাদের দাদা-দাদির কাছে বসবাস করছে।
সূত্র: এনডিটিভি।