২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান, আবার দিলে মেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পদত্যাগের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন—এমন একটি দাবি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম মোহাম্মদ-বাগের খারাযি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা বার্তা দিয়েছেন—ভবিষ্যতে আবার এমন প্রস্তাব এলে সেটি সরাসরি অনুমোদন করা হবে।
খারাযির দাবি, ওই সতর্কবার্তার পর প্রেসিডেন্ট আর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনছেন না।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত ভূমিকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী-আসগর শাফিয়ান। তার দাবি, মোহাম্মদ-বাগের খারাযির সঙ্গে মোজতবা খামেনির কোনো বৈঠক বা সরাসরি যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতেই এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমদ জাইদাবাদিও বিষয়টিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভিডিওতে খারাযি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে দেশটির সরকার ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় সমর্থন এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সম্মতির ভিত্তিতেই সমঝোতা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।