২০২৭ সালে হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
২০২৬ সালের সফল হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের হজের খরচ আরও কমিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিমান ভাড়া এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন কর কমানো সম্ভব হলে একজন হাজির খরচ অন্তত ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজ প্যাকেজের সামগ্রিক মূল্য কমাতে শুধু বিমান ভাড়া নয়, সৌদি আরবে আবাসন ব্যয়ও কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে সেবার মান যেন কোনোভাবেই কমে না যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুনাফা কমিয়ে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে বিমানবন্দর কর ও গাকা চার্জ বাবদ যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তা কমাতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে একটি কারিগরি দলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রশাসনিক ব্যয় ও সৌদি চার্জ কমানো সম্ভব হলে শুধু এভিয়েশন খাত থেকেই হজযাত্রীর খরচ প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসবে।
তিনি আরও জানান, হজ এজেন্সিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তাদের প্রায় ৬২ কোটি টাকা বকেয়া দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট-বড় সব এজেন্সি যেন সমানভাবে হজ ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়েও সরকার নজর রাখছে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ক্যাম্পে খাবারের দাম লাভবিহীন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নুসুক কার্ড ও রোড টু মক্কা প্রকল্পের মাধ্যমে হাজিদের ভোগান্তি কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের জন্য হজকে আরও সহজলভ্য করতে যাকাত ফান্ড ব্যবহার অথবা সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ হজযাত্রী বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তাই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নয়, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন ও লেনদেন করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।