কবুল’ ছাড়াও যে ৫ শব্দ উচ্চারণে ইসলামে বিয়ে সম্পন্ন হতে পারে
বিয়ে ইসলামে একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামে সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিয়ে করল, সে তার অর্ধেক দ্বীন (ইমান) পূর্ণ করল। অতএব, অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।” (বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান)
অন্য এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ, এটি দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
‘কবুল’ শব্দ না বললেও কি বিয়ে হবে?
অনেকের ধারণা, নিকাহর সময় বর যদি ‘কবুল’ শব্দটি উচ্চারণ না করেন, তাহলে বিয়ে সহিহ হয় না। তবে ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী এ ধারণা সঠিক নয়। মূল বিষয় হলো—ইজাব (প্রস্তাব)-এর জবাবে এমন শব্দ বলা, যাতে স্পষ্টভাবে সম্মতি প্রকাশ পায়।
অর্থাৎ, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি গ্রহণ করলাম”, “আমি রাজি” বা নিকাহ বোঝায়—এমন অন্য স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করলেও বিয়ে সহিহ হবে।
যেসব শব্দে নিকাহ সম্পন্ন হতে পারে
ফিকহের গ্রন্থে যা বলা হয়েছে
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া-তে উল্লেখ রয়েছে, নিকাহ এমন সব স্পষ্ট শব্দ দ্বারা সম্পন্ন হয়, যেমন—أنكحتُ، تزوجتُ، قبلتُ، رضيتُ ইত্যাদি।
এ ছাড়া আল-হিদায়া (২য় খণ্ড)-এ বলা হয়েছে, ইজাব ও কবুল এমন শব্দে হতে হবে, যা দ্বারা স্পষ্টভাবে নিকাহর অর্থ প্রকাশ পায়।
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, বায়হাকী (শু‘আবুল ঈমান), ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, আল-হিদায়া।