হবিগঞ্জে হামলা ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশি বাধার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমনে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের পথ অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের মধ্যে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভিন্নমত দমনে হাসিনার কায়দায় তারা বালুর ট্রাক দিয়ে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যারা ১৭ বছরের দানবীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাদের বালুর ট্রাক দিয়ে আটকানো যাবে না। তারেকের নামে হোক বা হাসিনার নামে—এ দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না।”
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক নয় এবং শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে তাদের যে পরিকল্পনা ছিল, গত পাঁচ মাসে তা স্পষ্ট হয়েছে। কীভাবে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় এবং সভা-সমাবেশে হামলা করা যায়, সেটিই তারা দেখিয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ বালুর ট্রাক দিয়ে আন্দোলন দমাতে পারেনি, আপনারাও খালি ট্রাক দিয়ে পারবেন না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে যে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটেছে, তা আপনারা বুঝতে পারছেন না।”
তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে হামলা ও দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।
সমাবেশ শেষে বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।