গত দেড় দশক ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন তারা দুজন। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো; ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মাঠের লড়াইয়ে কোটি ভক্তকে বিভক্ত করেছেন, উপহার দিয়েছেন রোমাঞ্চ। অথচ ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফিফা বিশ্বকাপে তারা কখনো একে অপরের মুখোমুখি হননি, যা এখনো ক্রীড়া ইতিহাসের এক পরম বিস্ময়। ২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর সাথে সাথে ভক্তদের মনে আবারও সেই পুরোনো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে কি তবে সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে?
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে দুই তরুণের যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ বিশ বছরের এই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো তাদের দেখা হয়নি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং ৪১ বছর বয়সী রোনালদো যখন মাঠে নামছেন, তখন এটিই যে তাদের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফুটবল ইতিহাসের শেষ এই না লেখা অধ্যায়টি পূর্ণতা পাওয়ার জন্য টুর্নামেন্টের সমীকরণ অবশ্য একটি সুযোগ তৈরি করে রেখেছে।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলছে ‘জে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। অন্যদিকে ‘কে’ গ্রুপে থাকা পর্তুগালের লড়াই কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে। কাগজের কলমে দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে যাওয়ার শক্তিশালী দাবিদার। তবে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা সব সময়ই অপ্রত্যাশিত।
মেসি ও রোনালদোর এই ঐতিহাসিক দ্বৈরথ বাস্তবে রূপ নিতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। যদি আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখে, এবং এরপর রাউন্ড অব থার্টি-টু ও রাউন্ড অব সিক্সটিনের বৈতরণী সফলভাবে পার করতে পারে, তবেই টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার একটি সরাসরি পথ তৈরি হবে। তবে এই পথ যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা মোটেও নয়। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই একেকটি অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে যেকোনো অঘটন ভেস্তে দিতে পারে কোটি ফুটবল ভক্তের এই বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের চাকা এবং মাঠের পারফরম্যান্স দুই কিংবদন্তিকে একবিন্দুতে মেলাতে পারে কিনা, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
No comments:
Post a Comment