ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স-স্পেন, নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছেছে। চরম গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাস দাবানল দ্রুত বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গিরোন্দে অঞ্চলে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন এলাকা বোর্দোর আশপাশে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। দাবানল বর্তমানে বোর্দো শহরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের এলাকাতেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির ইতিহাসে অন্যতম বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দাবানলের তাপ এতটাই তীব্র যে এর ফলে বায়ুমণ্ডলে বিশেষ ধরনের কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হচ্ছে। এসব মেঘ থেকে সৃষ্ট বজ্রপাত আবার নতুন নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত ঘটাচ্ছে, ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স ও স্পেনের দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। ফ্রান্সে বিশেষ অগ্নিনির্বাপক বিমান ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বনাঞ্চলে ফায়ারব্রেক বা প্রতিরোধক পথ তৈরি করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বড় পরিসরের দাবানল মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা দাবানল নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি।