স্পেনে অভিবাসী প্রবেশ ৬০ হাজার ছাড়াল, প্রাণ গেল ৪১ জনের
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। সমুদ্র সাঁতরে ও স্থলপথে মরক্কো থেকে আসা এসব মানুষের ঢলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্ত পরিস্থিতি। এ সময় সমুদ্রপথে পারাপারের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে মানব পাচারকারী চক্রকে এর জন্য দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সেউতার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, একদিনে প্রবেশ করা অভিবাসীর সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। ফলে আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম চাপে পড়েছে।
ঘটনার পর মরক্কো ও স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সীমান্ত এলাকায় অভিবাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ইতালি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন ব্যবস্থায় সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে এবং ফ্রান্সও সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের একটি সাম্প্রতিক আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানব পাচারকারী চক্র অভিবাসীদের মধ্যে এই ধারণা ছড়ায় যে সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছালে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে। তবুও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।