The Future Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

নেপালের মধেশে সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩, চার জেলায় কারফিউ

Saturday, August 01, 2026 The Future press
নেপালের মধেশে সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩, চার জেলায় কারফিউ

 

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের মধেশ প্রদেশে কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজনে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চারটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স (এপিএফ) ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ কার্যকর রয়েছে। এছাড়া পারসা জেলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তঘেঁষা সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানান, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালানোর সময় দুজন নিহত হন। এছাড়া কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার একটি বিক্ষোভে আরও একজন প্রাণ হারান। তবে তিনজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুনসারি জেলার ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতা, যিনি সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই ঘটনায় আহত ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও পরে মৃত্যু হয়। এছাড়া সিরাহা জেলার গোলবাজার এলাকায় সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরের জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিরাহার গোলবাজার এলাকায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টাও চলছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, শুরুতেই প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।

এদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র: আল জাজিরা, কাঠমান্ডু পোস্ট ও ফার্স্ট পোস্ট