৪ আগস্ট: এক দিনের অসহযোগে রক্তাক্ত বাংলাদেশ, পরদিনই চূড়ান্ত ডাক ‘মার্চ টু ঢাকা’
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক রক্তাক্ত ও স্মরণীয় দিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠে। দিনভর সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর আসে এবং আহত হন কয়েক হাজার মানুষ। সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহই পরদিন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির পথ তৈরি করে।
সকালে বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলি এবং বিভিন্ন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
দিনভর সংঘর্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নরসিংদী, বগুড়া, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, মাগুরা, মুন্সীগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, সরকারি স্থাপনা, থানা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জনপ্রতিনিধিদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়।
বিকেলের দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা শাহবাগে সমাবেশ থেকে পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা আন্দোলনকারীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
সন্ধ্যায় সরকার রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। একই সঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন এবং তিন দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।
৪ আগস্টের ঘটনাবলি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই দিনের সহিংসতা ও প্রাণহানির পরের দিন ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।