জামায়াতের এক এমপিকে ঘিরে ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায় করে এবং পরে আরও টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ জড়িত। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি গোপনে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন এমপি।
গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা নয়; বরং বৈধ দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে অপপ্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ বিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি দলের নজরে এসেছে। এমপি তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তাদের পারিবারিক সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। তারা ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।