রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন স্পিকার। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও, সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই দেশে ফিরছেন তিনি।
সূত্রগুলোর দাবি, শুক্রবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে স্পিকারের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এ কারণে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রায় আড়াই মাস ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।