The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

Wednesday, August 05, 2026 The National Press
অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। তার ফেসবুক পেজে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় তার বাবা বাজারে এবং মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই সুযোগে রিপন মিয়া তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, ভিডিওতে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রথমদিকে লোকলজ্জার কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর সোমবার রাতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা শেষে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আইনজীবী ও সচেতন মহলের অনেকে ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের নিষ্পত্তি সালিশের মাধ্যমে করার উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে জানিয়েছেন এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান।