ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহের টানা এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৯২ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শুরুতে নিহতের সংখ্যা ৫১ জন বলা হলেও সময়ের সাথে সাথে নিহতের তালিকায় আরও অনেক নাম যুক্ত হয়েছে। তবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় এবং তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংঘর্ষে প্রাণহানি ছাড়াও সারা দেশে আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ এই অস্থিতিশীলতাকে ‘বাইরের শক্তির ইন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইরানের জাতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববারও বিক্ষোভের অভিযোগে কয়েকশ মানুষকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববারই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার এবং জনগণের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
অন্যদিকে, ইরানের এই অস্থিরতার মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরানের এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করার এটাই উপযুক্ত সময়।
No comments:
Post a Comment