ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেইত শেমেশে নয়জন নিহত হওয়ার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযান দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে। এক, ইসরায়েলের ওপর থাকা অস্তিত্বের হুমকি দূর করা। দুই, ইরানের জনগণকে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সুযোগ করে দেওয়া।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তৃতীয় দিনে আজ নেতানিয়াহুর কার্যালয়েই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল ইরান। এমনকি সেই হামলায় নেতানিয়াহুর কোনো ক্ষতি হলো কি না, সে নিয়েও অনেক গুজব ছড়ায়। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম সেসব দাবি মিথ্যা বলে জানিয়েছিল আগেই। এরপর জনসমক্ষে এলেন নেতানিয়াহু।
সেখানে সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমরা এই অভিযানে নেমেছি আমাদের বিরুদ্ধে অস্তিত্বগত হুমকি নতুন করে তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে। একই সঙ্গে সাহসী ইরানি জনগণ যেন নিজেদের ওপর থেকে স্বৈরাচারের জোয়াল ঝেড়ে ফেলতে পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করতেই আমরা এই অভিযান শুরু করেছি।’
‘সেই দিন ঘনিয়ে আসছে, যখন ইরানের জনগণ সত্যিই সেটা করতে পারবে। আমরা সেই দিনকে আরও কাছে নিয়ে আসছি। যখন সেই দিন আসবে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে থাকবে’- বলেছেন নেতানিয়াহু।
হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসন বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালায়, আর আমরা বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করতে সেই সন্ত্রাসী শাসনকে লক্ষ্য করি। এটাই বড় পার্থক্য।’
তিনি বলেন, ইরান শুধু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ‘সব দেশের মানুষের জন্য’ হুমকি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা গতকাল এই অঞ্চলের বহু দেশে হামলা চালিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম, তারা ইউরোপেও হামলা করবে। দেখুন, তারা ইউরোপেও হামলা করেছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, শেষ কথাটির মাধ্যমে নেতানিয়াহু সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার কথাই উল্লেখ করেছেন, যদিও সে হামলাটি আসলেই হয়েছে কি না, হলেও সেটি কে করেছে তা নিয়ে সংশয় আছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘(ইরানের) এই সন্ত্রাসী শাসন যদি পারমাণবিক অস্ত্র পায়, তাহলে তারা সমগ্র মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমরা প্রথমে নিজেদের ওপর থেকে এই বিপদ সরাতে অভিযান শুরু করেছি। তবে আমরা এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি, মানবতার পক্ষ থেকে এবং মানবতার স্বার্থে।’
No comments:
Post a Comment